পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আসছে কয়লাবাহী জাহাজ।

0
48

কালের সমাচার ডেস্ক ।।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আসছে কয়লাবাহী জাহাজ।

ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০ হাজার টন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর উদ্দেশে একটি জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে।

এরমাধ্যমে দেশের কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি শুরু হলো।

৯ সেপ্টেম্বর সোমবার, বিষয়টি পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আশা প্রকাশ করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে জাহাজটি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছাবে। শিগগিরই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির টেস্টিং শুরু হবে।

এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুকেন্দ্রটি রাষ্ট্রীয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) ও

চীনের সিএমসি কোম্পানি নির্মাণ করছে। একেবারে শেষের পথে কেন্দ্র নির্মাণ।

ডিসেম্বরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এবং আগামী বছরের মাঝামাঝিতে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদন শুরু করবে।

১৬ জুন বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহের জন্য চুক্তি করে।

দশ বছর মেয়াদের চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পিটি বায়ার্ন রিসোর্স টিবিকে কেন্দ্রটির জ্বালানি সরবরাহ করবে।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়,

‘ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পিটি বায়ার্ন রিসোর্স টিবিকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কয়লা সরবরাহকারী কোম্পানির একটি।

কয়লা উৎপাদনের সাথে পিটি বায়ানের বন্দর অবকাঠামো রয়েছে’।

কয়লা পরিবহনের জন্য জার্মানির কোম্পানি ওলডেনডরফের সাথে বিসিপিসিএল আলাদা চুক্তি করছে।

সেই চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। বিশ্বের সমুদ্র পরিবহনে ওলডেনডরফ প্রথম শ্রেণির একটি কোম্পানি।

বর্তমানে প্রতি টন কয়লার মূল্য ৫৫ ডলার। এর সাথে পরিবহন খরচ ২৫ ডলার। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে মূল্য ৮০ ডলার।

তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মাওলা বলেন,

‘জাহাজটিতে কয়লা বোঝাই শেষ হয়েছে বিকেল ৫ টায়। রাতেই জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।

প্রথমে কেন্দ্রটির জন্য ২০ হাজার টন কয়লা আনা হচ্ছে। এখন থেকে নিয়মিত ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আনা হবে।’

প্রসঙ্গত, পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথম জ্বালানি আমদানি শুরু করলেও আগামী কয়েক বছরে দেশে ব্যাপকভাবে কয়লার ব্যবহার শুরু হবে।

রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র দুইটি পরপর উৎপাদন শুরু করবে। এতে দেশে ব্যাপক কয়লার চাহিদা তৈরি হবে।

কিন্তু আশঙ্কার বিষয়, দেশে এখনও পূর্ণাঙ্গ বন্দর অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এর ফলে কয়লা পরিহনে মারাত্মক সংকট তৈরি হবে।

যদিও সরকার বলছে, মাতারবাড়িতে একটি বন্দর নির্মাণ করা হবে। ওই বন্দর দিয়ে কয়লা পরিবহন করা হবে।

কয়লার জাহাজ আসতে ১২ মিটার ড্রাফট প্রয়োজন হলেও মোংলা ও পায়রা বন্দর এলাকায় ড্রাফট নেই।

মাতারবাড়িতে বন্দর নির্মাণ হলে সেখান থেকে লাইটার জাহাজে কয়লা অন্য বন্দরগুলোতে নেয়া যেতে পারে।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে,

‘এখন সরাসরি ৫০ হাজার টনের জাহাজের অর্ধেক অর্থাৎ ২৫ বা ২৬ হাজার টন ভরে কেন্দ্রের জেটিতে সরাসরি জাহাজ আনা হবে।

এক বছর পর আন্দামানে তিন লাখ টনের জাহাজ আনা হবে।

আর সেখান থেকে পরে লাইটার জাহাজে করে কেন্দ্র এলাকায় কয়লা আনা হবে। এতেও পরিবহন খরচ কিছুটা কমবে’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here