পাস করেছে ‘ছোট্ট’ দীঘি।

কালের সমাচার ডেস্ক।

শিশুশিল্পী দীঘি সবার প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছিল মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের সংলাপের মাধ্যমে

-‘বাবা জানো, আমাদের একটা ময়না পাখি আছে না, সে আজকে আমার নাম ধরে ডেকেছে।

আর এ কথাটা না মা কিছুতেই বিশ্বাস করছে না। আমি কী তাহলে ভুল শুনেছি? কেমন লাগে বলো তো!’।

এখন আর ছোট্টটি নেই এক যুগ আগের সেই দীঘি। আজ সে স্কুলের গণ্ডি পার করেছে।

রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড স্কুল থেকে সে এবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিইয়েছিল। বাবা অভিনয়শিল্পী সুব্রত জানান, জিপিএ ৩.৬১ পেয়েছে দীঘি।

সুব্রত বলেন, ‘আমার মেয়ের মা নেই। অনেক কষ্ট করে সে পড়াশোনা করেছে। কোনো গৃহশিক্ষক ছিল না। কোচিংও করেনি।

নিজের চেষ্টায় সে পড়েছে। একা একা পড়ালেখা করে যা করেছে, তাতেই আমি খুশি। আমার মতে, সে আনন্দ নিয়েই পড়াশোনা করেছে।

এখানে অনেক ভালো ফলাফল নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

একসময়ের আলোচিত শিশুশিল্পী দীঘি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর প্রথম আলোকে খবরটি জানান তার বাবা সুব্রত। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে অঙ্কে ডি গ্রেড পেয়েছে।

তাই গড়ে অন্য বিষয়ের নম্বর কমে গেছে। আমি মেয়েকে বলেছি, ব্যাপার না, সামনের দিকে তাকাও। মানুষের মতো মানুষ হও, এটাই আমার চাওয়া।’

কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছে, দীঘি পর্দায় ফিরবে নায়িকা হয়ে। এত দিন এসএসসি পরীক্ষার জন্য পরিবার থেকে অভিনয়ে আপত্তি ছিল।

সুব্রত বলেন, ‘ব্যাটে-বলে মিললে এবং ভালো গল্পের ছবির প্রস্তাব পেলে অবশ্যই অভিনয় করতেও পারে।’

দীঘি চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান। দীঘি সুব্রত আর প্রয়াত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দোয়েলের একমাত্র মেয়ে।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচিত হয়। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র কাজী হায়াত পরিচালিত ‘কাবুলিওয়ালা’।

২০০৬ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

এরপর দীঘি দর্শক মনে জায়গা করে নেয় ‘দাদিমা’, ‘চাচ্চু’, ‘বাবা আমার বাবা’, ‘১ টাকার বউ’ ও ‘অবুঝ শিশু’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে।