কেমন কাটছে শৈশব!!

মাহিন, কালের সমাচার ডেস্ক।

মানব জীবনের একটি স্বল্প কিন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় শৈশবকাল। জীবনের বাকিটা সময় কেমন কাটবে তার অনেকটাই নির্ভর করে শৈশবের শিক্ষা ও অভ্যাসের ওপর।

শৈশবের স্মৃতি পরবর্তীতে মনে না থাকলেও তা বেঁচে থাকে আমাদের স্বভাবে।মানুষ অনুকরণপ্রিয় আর সামাজিক জীব হওয়ায় আশে পাশের মানুষদের থেকেই জীবনের প্রথম শিক্ষাটা পায়।

চলাফেরা, বাচনভঙ্গি, মানুষের সাথে মিশতে পারি, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পায় শৈশব থেকেই।

৫-১০ বছরের সময়কালকে শৈশব বলা হয়। এই সময়ে আমাদের মনের বিকাশ ঘটে। এই বয়সটাতে আমাদের কৌতুহল থাকে সবচেয়ে বেশী।

আমরা আমাদের চারপাশের সবকিছু খুব কৌতুহললের চোখে দেখি। অজানা কে জানতে চাই। যেহেতু আমরা অনুকরণপ্রিয় আমরা এই সময়টাতে যা দেখি তাই করতে চাই।

আমাদের যেহেতু বোঝার ক্ষমতা থাকে না তাই আমরা ভালো জিনিসটা যেমন গ্রহন করতে পারি তেমনি পারি খারাপ জিনিসটাও গ্রহণ করতে। বাবা মায়ের উচিত এই সময়টাতে তাদের সময় দেয়া।

সে কার সাথে মিশছে কী করছে সেদিকে খেয়াল রাখা। কিন্তু যা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের সুস্থ শৈশব। যে সময়টা বাবা মায়ের হাসি উল্লাস করে সময় কাটানোর কথা।

সে সময়টা পাশে পাচ্ছে না বাবা অথবা মাকে। কখনোও দুইজনকে। যার ফলে দূরত্ব বাড়ছে বাবা মায়ের সাথে। গৃহপরিচিকার কাছে বড় হওয়ার জন্য অনেক ভাবে কষ্টের শিকার হচ্ছে।

পরিবারে থাকছে না বড় কোন সদস্য। যার ফলে শিখছে না বড়দের সম্মান করা। জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় কাটছে বাবা মা পরিবারের সদস্য ছাড়া।

আগের শিশুরা বিকেল হলেই খেলতে যেত আর এখন তাদের সময় কাটে মোবাইল, গেমস খেলা আর কার্টুন ছবি দেখে। খেলা ধুলা যেখানে আমাদের শরীর ও সাস্থ্যের জন্য উপট‌কারি।

সেখানে সারাদিন মোবাইল টেলিভিশন দেখার ফলে ঘটছে স্বাস্থ্যের অবনতি। হচ্ছে চোখের সমস্যা। আর অসুস্থ এসব বিনোদনের জন্য পাল্টে যাচ্ছে তাদের পৃথিবী। শিখছে না গ্রিন বিঙ্গানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।

কয়েক বছর আগেও পড়া শেষ করে বাচ্চারা বাড়ীর বড়দের কাছে যেত গল্প শুনতে। এখন আর এ চল নেই। এখন সন্ধ্যা হলেই বাচ্চারা অপেক্ষা করে পড়া শেষে মোবাইল গেমস খেলার। যার ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তৈরী হচ্ছে দূরত্ব।

এখন শৈশব আর খেলাধুলা গল্প শোনা বা ঘুরতে যাওয়া নয়। এখন শৈশব সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে মোবাইল গেমস আর টেলিভিশন কার্টুনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here