হাজার বছরের “বিজয় সিংহ দীঘি”।

0
42

হাজার বছরের “বিজয় সিংহ দীঘি”

হাজার বছর পুরনো ঐতিহাসিক জনপদের মধ্যে ফেনী অন্যতম।

গৌরবগাঁথা অজস্র নিদর্শন এখানে ছড়িয়ে আছে। এগুলোর একটি বিজয় সিংহ দীঘি।

সার্কিট হাউসের পাশের বিজয় সিংহ গ্রামে নদীটি অবস্থিত। এর তিন দিক উঁচু পাহাড়ের মতো সবুজ বৃক্ষ ও লতাপাতায় ঘেরা।

ফেনী জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন বিজয় সিংহ দীঘির আয়তন ৩৭ দশমিক ৫৭ একর।

বিকেলের দিকে ভ্রমণপিপাসুরা প্রশান্তির খোঁজে বিজয় সিংহ দীঘির পাড়ে ভিড় করেন। রাতের আলোয় নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

বিজয় সিংহ দীঘি শত বছরের প্রাচীন রূপকথার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করছে। তবে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

অনেকে এ দীঘিকে প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের অমর কীর্তি মনে করেন। তাদের মতে, ৫০০-৭০০ বছর আগে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন নদীটি খনন করেন।

আবার অনেকে মনে করেন, স্থানীয় রাজা বিজয় সিংহ দীঘিটি খনন করেন। তার নামানুসারে এর নামকরণ হয়।

কথিত আছে, মাকে খুশি করার জন্য রাজা বিজয় সিংহ এ সুদীর্ঘ দীঘিটি খনন করেন।

একসময় এতে সোনা ও রূপার থালা ভেসে উঠতো! একদিন এক ভিখারিনী একটি থালা চুরি করে।

তারপর থেকে আর থালা ভেসে ওঠে না। আরও জনশ্রুতি আছে, দীঘিতে অনেক বড় মাছ পাওয়া যেতো, সেগুলোর প্রত্যেকটির ওজন ৮০-১০০ কেজি পর্যন্ত।

ফেনীর কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে কমলা সুন্দরীকে জিন দীঘিতে নামিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেন।

অনেকে মনে করেন, উপন্যাসটিতে এ দীঘির কথাই রয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয়, দীঘিটি এখন পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে সেচ করা সম্ভব হয়নি।

এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে ১৯৯৫ সালে এর চারপাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

গত বছর দীঘির পাড়ে হাঁটাপথ, আরসিসি গ্যালারি, লাইটিং, সীমানা প্রাচীর ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here