ভার্চুয়াল জগতে নিরাপদ থাকতে গুরুত্ব পূর্ণ ১২টি বিষয় জেনে নিন!

0
31

তামান্না আলী প্রিয়া

নানাভাবেই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে ইন্টারনেট।

যার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে প্রায় সময়ই আমাদের যুক্ত থাকতে হয় ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতে।

আর সেখানেই এখন সংরক্ষণ করে রাখতে হয় প্রচুর প্রয়োজনীয় তথ্য।

১। দ্বি-স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করা

বেশিরভাগ অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্যই সাধারণত দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে।

তবে বিষয়টি একটু বেশি সময় নেয় বলে অনেকেই ঝামেলা এড়াতে এটি গ্রহণ করেন না।

বিশেষ করে মোবাইল থেকে কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চাইলে তার জন্য অবশ্যই এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আর আর্থিক লেনদেনের সাথে কোনো অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট থাকলে সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই এই ধাপটি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

২। পাসওয়ার্ড শেয়ার না করাঃ

অনলাইন যেকোনো অ্যাকাউন্টের জন্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর পাসওয়ার্ড।

কোনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হারানো মানে হচ্ছে ওই অ্যাকাউন্টের উপর আপনার আর কোনো অধিকার থাকবে না।

তাই পাসওয়ার্ডকে সবসময় অন্যদের কাছ থেকে আড়ালে রাখতে হবে। আবার পাসওয়ার্ড মনে রাখার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই পাসওয়ার্ড লিখে রাখেন কোনো স্থানে।

এমনটি হলে এমন এক জায়গাতে পাসওয়ার্ড লিখে রাখবেন, যাতে অন্য কারও নজরে না পড়ে।

৩। পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সতর্কতাঃ

স্বাভাবিকভাবেই পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে খানিকটা কম নিরাপদ।

ফলে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য যতটা কম শেয়ার করা যায়, ততই ভালো।

বিনামূল্যের এসব পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক অনেক সময়ই হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

এসব নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য হাতিয়ে নেওয়াও তাদের জন্য একটু সহজ।

তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া পাবলিক বা শেয়ারড কম্পিউটার ব্যবহারের সময়ও যতটা সম্ভব সতর্ক থাকতে হবে।

৪। মোবাইলেও অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টিম্যালওয়ারঃ

ডেস্কটপ পিসিতে অনেকেই অ্যান্টিভাইরাস এবং অ্যান্টিম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকলেও মোবাইলে তা করেন না।

এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। কারণে আপনার মোবাইলের মাধ্যমেও ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আক্রমণ করতে পারে।

আর তা থেকেও সমান ক্ষতি হওয়া সম্ভব। তাই ভালো কোনো অ্যান্টিভাইরাসের পিসি সংস্করণের পাশাপাশি মোবাইল সংস্করণও ব্যবহার করতে শুরু করুন।

এতে করে আপনার মোবাইল ডিভাইসও সুরক্ষিত থাকবে। ফলে যেকোনো ডিভাইসেই আপনি থাকবেন যথাসম্ভব নিরাপদ।

৫। আলাদা পাসওয়ার্ড এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড বদলঃ

অনলাইনে একেকটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ একই পাসওয়ার্ড অনেকগুলো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে তাতে করে একটি পাসওয়ার্ডই সবগুলো অ্যাকাউন্টের কর্তৃত্ব নিয়ে নিতে যথেষ্ট।

তাই প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্যই আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। তাছাড়া নিয়মিত প্রতিটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে দিন।

এতে করে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। আর পাসওয়ার্ড তৈরিতে প্রচলিত নমুনাগুলো এড়িয়ে নিজের মতো করে অনন্য পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।

ছোট ও বড় হাতের অক্ষরের সাথে সাথে সংখ্যা এবং অ্যাকাউন্ট সমর্থন করলে বিশেষ বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন।

তাতে পাসওয়ার্ড শক্তিশালী হবে এবং একে ভাঙা কঠিন হবে।

৬। ফিশিং এবং স্প্যামিংয়ে সতর্কতাঃ

কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নিতে হ্যাকারদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ফিশিং এবং স্প্যামিং।

অনেক সময়ই অনলাইনে এমন কোনো অফার পাবেন, যেটি আপনার সামনে নানা ধরনের লাভ ছড়িয়ে রাখবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের অফার পাওয়া যায় না।

তাই এ রকম কোনো অফার সামনে এলে সেটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে আসছে কি না, তা খেয়াল রাখুন। ইমেইল অ্যাকাউন্টেও প্রচুর আকর্ষণীয় অফারের ইমেইল আসে।

এগুলো থেকেও সতর্ক থাকুন। অনেক সময় অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এমন তথ্য নিয়েও ইমেইল বা নোটিফিকেশন হাজির হয়।

এসব ক্ষেত্রে ভালো করে খেয়াল রাখুন কোন ইমেইল বা সূত্র থেকে এটি হাজির হয়েছে। হ্যাকিংয়ের খবর দেখে আগেই আতংকিত হয়ে এসব লিংকে ক্লিক করবেন না।

তাতে হিতে-বিপরীত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। যে সূত্র থেকে ইমেইল বা লিংক হাজির হয়েছে সেটি এই লিংক পাঠানোর যথাযথ সূত্র কি না, সেটি যাচাই করে নিন।

অনেক সময় বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য সূত্র হিসেবে সঠিক কর্তৃপক্ষের খুব কাছাকাছি কোনো ঠিকানা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৭। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কম তথ্য উন্মুক্ত রাখাঃ

সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কম পরিমাণে উন্মুক্ত রাখাই বাঞ্ছনীয়।

সাথে সাথে প্রাইভেসি সেটিংকেও যতটা সম্ভব শক্তিশালী ও গোপনীয় রাখা নিরাপত্তার জন্য ভালো হবে।

কেননা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো থেকে উন্মুক্ত তথ্য নিয়ে কিন্তু হ্যাকাররা নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম।

৮। ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখুনঃ

আপনি হয়তো আপনার নিজের ঘরেই ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকেন যার মাধ্যমে আপনার মোবাইল ডিভাইসগুলোও পরিচালনা করেন।

কিন্তু এই নেটওয়ার্ককেও সুরক্ষিত রাখাটা জরুরি। এর জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপশনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে আপনাকেই।

৯। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে ডাউনলোডঃ

অনলাইনে সফটওয়্যারের বিপুল ভাণ্ডার থেকে অনেক সময়ই বিনামূল্যের সফটওয়্যার ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যায়।

এই সুযোগ ব্যবহার করেই অনেকে সফটওয়্যারের সাথে ম্যালওয়্যার পাচার করে থাকে পিসিতে।

তাই বিশ্বস্ত সূত্র ছাড়া সফটওয়্যার ডাউনলোড করা ঠিক নয়, তা যত ভালো সফটওয়্যারই হোক না কেন।

১০। সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখাঃ

যেকোনো ধরনের সফটওয়্যারকে সর্বদা আপডেট বা হালনাগাদ রাখার কোনো বিকল্প নেই।

কারণ সব সফটওয়্যারের সর্বশেষ সংস্করণগুলোই সাধারণত সব ধরনের ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে সক্ষম।

তাই অপারেটিং সিস্টেম থেকে সব ব্যবহূত সফটওয়্যারই হালনাগাদ রাখুন।

১১। বেশি ভালো ভালো নয়ঃ

অনলাইনে অনেক সময় এমন সব আকর্ষণীয় অফার হাজির হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here