একটিও লিচু নেই কোটি টাকার বাগানে!

কালের সমাচার ডেস্ক।

ভর মৌসুমে একটিও লিচু নেই গাজীপুরের শ্রীপুরে কোটি টাকার লিচু বাগানগুলোতে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রবল শিলাবৃষ্টিতে অন্যান্য গাছের সঙ্গে ঝড়ে গেছে লিচু গাছের মুকুলসহ পাতা।

অনেক গাছ উপড়ে গেছে গোড়া থেকে।

লিচু নির্ভর জীবিকা নির্বাহ থেকে এবার বঞ্চিত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

গাজীপুরের শ্রীপুরের বাগান মালিকেরা এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন লিচুর মুকুল পরিপক্ক হওয়ার শুরুতেই শিলাবৃষ্টিতে।

বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন শ্রীপুর পৌরসভা ও তেলিহাটী ইউনিয়নের বাগান মালিকেরা।

একই গ্রামের আলমাছ উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিবছর কমপক্ষে ১২ লাখ টাকায় লিচু বাগান বিক্রি করতেন।

মৌসুমের শুরুতে আকস্মিক শিলাবর্ষণে তার লিচু বাগানের একটি পাতাও গাছে ঝুলে থাকতে দেখা যায়নি।

গোড়া থেকে উপড়ে গেছে অনেক গাছ।

তেলিহাটী ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের নাসির উদ্দিন জর্জ জানান, এলাকার সব বাগান মালিক এমন অবস্থার শিকার হয়েছেন।

শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকার লিচু বাগান মালিকেরা লিচু বিক্রি করে বছরের সিংহভাগ আয় করে থাকেন।

লিচুর এ মৌসুমে এলাকাবাসী স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিলিয়ে উৎসব করতেন।

কিন্তু এবার কাঁদতে হয়েছে প্রত্যেকটি বাগান মালিককে।

নিজের পরিবারের জন্যও একটি লিচু তারা গাছ থেকে পাননি।

এবার লিচু নির্ভর জীবিকা নির্বাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের এমদাদুল হক আকন্দ জানান, তিনি প্রতিবছর এক লাখ টাকার বেশি লিচু বাগান বিক্রি করতেন।

এবার লিচু বাগানে মুকুল দেখা দিয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে।

আর ঠিক এ সময় আকস্মিক শিলাবর্ষণে ঝড়ে গেছে সব গাছের পাতা।

এর সঙ্গে লিচু গাছগুলোও দাঁড়িয়েছিল পাতাবিহীন শুকনো গাছের মতো।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার লিচু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত ফকির জানান, প্রতিবছর লিচুর মৌসুমে ব্যবসায়ীরা মুকুল অবস্থায় শ্রীপুরে একত্রে প্রায় কোটি টাকার বাগান কিনে রাখতেন।

এবার যথাসময়ে এসে ফিরে গেছেন নাখোশ হয়ে।

যে শ্রীপুরে কোটি কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হতো এবার লিচুশূন্য সে শ্রীপুরের অনেক লিচু বাগান।

কেওয়া গ্রামের লিচু বাগান মালিক রাশেদুল ইসলাম আকন্দ সবুজ জানান, লাখ লাখ টাকার লিচু যারা বিক্রি করতেন এবার লিচু কিনে খাচ্ছেন তারা নিজেরাই।

বাগানে ওষুধ স্প্রে করার কয়েকদিন পরে শিলাবৃষ্টি ঝড়িয়ে দিয়ে গেছে লিচু গাছের পাতা পর্যন্ত।

এখন কোনো গাছে একটিও লিচু নেই।

পাতা একবার ঝড়েছে কিন্তু এখনও ঝড়ছে বাগান মালিকদের চোখের জল।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, শ্রীপুর উপজেলায় শিলাবৃষ্টির কারণে লিচু ফলন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের নিচে।

তবে বাগান মালিকদের দেয়া তথ্যমতে ৩০-৪০ শতাংশ।

ছোট বড় মিলিয়ে শ্রীপুরে লিচু বাগানের সংখ্যা প্রায় ৩০০।

এ অঞ্চলে লিচুর বাগান রয়েছে ৭২৫ হেক্টর জমিতে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান জানান, লিচু গাছে কেবল মুকুল পরিপক্ক হচ্ছিল ঠিক সে সময় লিচুবাগান শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে।

স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে শ্রীপুরের উৎপাদিত লিচু বিক্রি হতো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

এ অঞ্চলের লিচুর স্বাদ ও গন্ধ আলাদা। কিন্তু এবার শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বাগান মালিকেরা।

এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সাময়িকভাবে বড় আঘাত করেছে এই ক্ষতি।