মোবাইল না পেয়ে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা।

কালের সমাচার ডেস্ক।

দশম শ্রেণীর এক ছাত্র নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

জানা গেছে ছেলে পড়া লেখা না করে সারাদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তার ব্যবহৃত ফোন তার বাবা লুকিয়ে রাখলে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

বুড়িগঙ্গা প্রথম চীন মৈত্রী সেতুর ওপর (পোস্তগোলা ব্রিজ) ঘটনাটি ঘটেছে।

মো. আসিফ খান (১৫) নামের ওই ছাত্র দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ কামুচান শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়ত।

একই এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে সে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোজার মাসে স্কুল বন্ধ। আসিফ পড়া লেখা বন্ধ করে সারাদিন মোবাইল ফোন ও বন্ধু-বান্ধব

এবং পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে খেলাধুলা করে সময় নষ্ট করে বেড়াত।

তাই বাবা হাবিবুর রহমান ছেলেকে পড়ালেখায় মন বসানোর জন্য শনিবার ইফতারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি লুকিয়ে রাখেন।

ইফতারের পর মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে আসিফ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় চেচামেচি করতে করতে।

সংবাদ পেয়ে নদীর ধারে গিয়ে আমরা আসিফকে খুঁজতে থাকি।

পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ও বুড়িগঙ্গা নৌপুলিশ খবর পেয়ে চেষ্টা চালান স্কুলছাত্র আসিফকে উদ্ধারের।

তারা নিখোঁজ আসিফকে শনিবার রাত থেকে শুরু করে রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে খুঁজে না পেয়ে তাদের উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে। তবে অব্যাহত রয়েছে নৌ পুলিশের টহল।

এরপর রাতে লোক মুখে জানতে পারি আসিফ আত্মহত্যা করেছে বুড়িগঙ্গা প্রথম চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে লাফ দিয়ে।

পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৬ এর অধীনে উপসহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, “

খবর পেয়ে আমার নেতৃত্বে ১০ সদস্য নিয়ে উদ্ধারের কাজ শুরু করি।

আমাদের উদ্ধার কাজ শনিবার রাত থেকে শুরু করে রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত খোঁজা খোঁজির কাজ চালিয়ে যাই।

স্কুলছাত্র আসিফকে দীর্ঘক্ষণ খোঁজা খোঁজির পরও উদ্ধার করতে না পেরে আমরা আমাদের উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করি।”

সদরঘাট নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম ভুইয়া এ ব্যাপারে জানান, স্কুলছাত্র আসিফকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল খুঁজে না পেয়ে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করলেও অব্যাহত রয়েছে আমাদের টহল।

এ ঘটনার পর থেকে স্কুলছাত্র আসিফের পরিবার ও এলাকাবাসী বুড়িগঙ্গা নদীর দু’পারে ভিড় জমিয়ে আছে। কখন পানি থেকে ভেসে উঠবে আসিফের লাশ।